ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। গত চার দিন ধরে দেশটিতে দফায় দফায় চালানো হামলায় আরও হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে জানায়, হামলা শুরুর পর থেকে নিহতের সংখ্যা ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ৭৮০ জনের বেশি প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, যা নতুন পরিসংখ্যানে হালনাগাদ করা হয়েছে।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, মাঠ পর্যায়ে তাদের দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই হিসাব প্রকাশ করেছে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, এই হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংস্থার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ইরানে মোতায়েন রেড ক্রিসেন্টের বিভিন্ন টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা কয়েক হাজার বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আরও জানায়, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইরানের ১৫৩টি শহর এবং ৫০০টিরও বেশি অবস্থান লক্ষ্য করে এক হাজারের বেশি হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় সামরিক স্থাপনা ছাড়াও বিভিন্ন অবকাঠামো ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে মঙ্গলবার ইরানের রাজধানী তেহরানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে এএফপির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাজধানী তেহরানের পশ্চিমে অবস্থিত কারাজ এবং মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার ফলে মানবিক সংকট গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিভিন্ন দেশ সংঘাত কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সরাসরি সমঝোতার কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রমে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ অনেক এলাকায় এখনো পুরোপুরি তল্লাশি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করতে কাজ করছে।