২০২০ সালের ২০ মে সুপার সাইক্লোন আম্পানের তাণ্ডবের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি উপকূলবাসী।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, ওই দিন সাতক্ষীরা উপকূলে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪৮ কিলোমিটারে পৌঁছায়। টানা ১৫ ঘণ্টা ধরে চলে তাণ্ডব। সৃষ্টি হয় প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সাতক্ষীরায় ১২ হাজার ৬৯৮টি মৎস্যঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭৬ কোটি ৫ লাখ টাকা। কৃষি খাতে ক্ষতি হয় ১৩৭ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকার। এর মধ্যে ছিল— আমের ক্ষতি ৬৫ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, সবজির ক্ষতি ৬২ কোটি ১৬ লাখ টাকা, পানের ক্ষতি ১০ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, তিলের ক্ষতি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া পশুসম্পদ খাতে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৯৫ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৬ টাকা।আম্পানের তাণ্ডবে জেলায় মোট ৮৩ হাজার ৪১৩টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর মধ্যে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয় ২২ হাজার ৫১৫টি ঘর এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০ হাজার ৯১৬টি। পাশাপাশি জেলার ৮১ কিলোমিটার রাস্তা ও ৫৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী, গাবুরা, পদ্মপুকুর, কাশিমাড়ি এবং আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের অধিকাংশ বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বাঁধ সংস্কার না হওয়ায় এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ দুই বছরেরও বেশি সময় পানিবন্দি ছিলেন। অনেক লোকালয়ে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা চলত। নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে দুর্গত পরিবারগুলোকে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শ্যামনগর, আশাশুনি ও সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তবে মেগা প্রকল্পের আওতায় শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে টেকসই বেড়িবাঁধ উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।
গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম বলেন, আম্পানের ভয়াবহ ক্ষতি ও দীর্ঘদিনের কষ্ট কাটিয়ে গাবুরার মানুষ ধীরে ধীরে আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। সরকারের বিশেষ নজরদারি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ভাঙনকবলিত প্রধান স্থানগুলোতে টেকসই ও আধুনিক বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বর্তমানে বড় আকারের মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ শেষ হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সাতক্ষীরা জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল প্রতাপনগর ইউনিয়ন। তবে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তায় এলাকাবাসী আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সফল হলে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।