সউদী আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামের একাংশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঈদের উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। ঈদের নামাজ আদায়ের পর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করেন।
হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে এ আগাম ঈদ উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টায় দরবারের মাদ্রাসা মাঠে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় দরবার মাঠে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন পীর জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি।
ভোর থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা জামাতে অংশ নিতে সমবেত হন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পশু কোরবানি সম্পন্ন করেন তারা।
আগাম ঈদ উদযাপন করা গ্রামগুলোতে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।
ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লি মো. হাসান বলেন, আমরা কোনোভাবেই একদিন আগে ঈদ করছি না; বরং মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে মিল রেখেই পালন করছি। অনেকেই না বুঝে বিভিন্ন মন্তব্য করেন, তবে সেসবের কোনো ভিত্তি নেই।
সাদ্রা দরবারের পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী বলেন, সারাবিশ্বে আজ ঈদ উদযাপিত হচ্ছে, আমরাও সেই অনুযায়ী ঈদ পালন করছি। সরকারি ঘোষণার কারণে অনেকেই আমাদের সঙ্গে একসঙ্গে ঈদ করতে পারছেন না। তবে মানুষ এখন ধীরে ধীরে সরকারের ঘোষণার অপেক্ষা না করে আন্তর্জাতিকভাবে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের দিকে ঝুঁকছেন।
জানা যায়, ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরীফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) সউদী আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও দুই ঈদ উদযাপনের প্রথা চালু করেন। সেই ধারাবাহিকতায় তার অনুসারীরা চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একই দিনে রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
প্রতি বছরের মতো এবারও হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব ও শাহরাস্তিসহ বিভিন্ন উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের একাংশে আগাম ঈদ উদযাপিত হয়েছে।