দলে থাকলেও আগের সিরিজে একাদশে জায়গা হয়নি তার। তবে এবার সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। তিন ম্যাচে ১৭৫ রান করে জিতেছেন সিরিজসেরার পুরস্কার। তরুণ পেসার নাহিদ রানাও এক সিরিজ বিরতির পর একাদশে ফিরেই দারুণ পারফর্ম করেছেন। তিন ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে হয়েছেন সিরিজসেরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা এই সিরিজে বাংলাদেশের প্রাপ্তি তাই কম নয়। এত কিছুর মাঝেও আলোচনায় ছন্দে থেকেও একাদশে সুযোগ না পাওয়া সৌম্য সরকারকে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছুটা ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তার সহধর্মিণী নিজেই।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে ৪, ৪৫ ও ৯১ রানের তিনটি ইনিংস খেলেছিলেন সৌম্য। স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল অভিজ্ঞ এ ব্যাটারের। কিন্তু তিন ম্যাচে একবারও একাদশে দেখা যায়নি তাকে। সিরিজের পর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘যখন যাকেই সুযোগ দেওয়া হবে, তাকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হবে। সৌম্যকে শেষ ম্যাচে একাদশে রাখা হলে যদি সে কোনো কারণে ব্যর্থ হতো, আত্মবিশ্বাস হারাত! একই সঙ্গে তার পরিবর্তে খেলা সাইফ হাসানও বাদ পড়াতে আত্মবিশ্বাস হারাত।’ যথেষ্ট সুযোগ দিতে চান বলেই এই সিরিজের তিন ম্যাচেই অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে খেলেছেন মিরাজরা। সেখানে সাফল্য এনে দেন তানজিদ ও নাহিদ।
সিরিজ থেকে প্রাপ্তির হিসাব দিতে গিয়ে মিরাজ বলেন, ‘ওভারঅল সবাই দল হিসেবে খুব ভালো খেলেছে। আমার কাছে মনে হয় নাহিদ রানা খুবই ভালো বোলিং করেছে। কারণ দেখেন, গত সিরিজে কিন্তু সে দলে ছিল না। এরপর ফের দলে ফিরে এসে ভালো পারফর্ম করেছে। প্রথম ম্যাচেই সে পাঁচ উইকেট পেয়েছে। তাসকিনও খুব ভালো বোলিং করেছে। মুস্তাফিজও নিজের দায়িত্বটা দারুণভাবে পালন করেছে। আমার মনে হয়, বোলাররা তাদের কাজটা খুব ভালোভাবেই করেছে। কারণ প্রথম ম্যাচে আমরা ওদের ১১৪ রানে অলআউট করেছি।’ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় হার দেখলেও বোলারদের প্রশংসা করেন অধিনায়ক, ‘দ্বিতীয় ম্যাচে হয়তো প্রথম ১০-১২ ওভারে আমরা খুব ভালো করতে পারিনি; কিন্তু পরে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। যদি দেখেন, শেষদিকে আমরা প্রায় ৪০ রানের মধ্যে ওদের ৬ উইকেট তুলে নিয়েছি। এটা সত্যিই দারুণ এক কামব্যাক।’
প্রাপ্তির সঙ্গে ঘাটতিও আছে। তিন ম্যাচের মধ্যে প্রথমটিতে সহজ জয় মিললেও দ্বিতীয়টিতে ১১৪ রানে গুটিয়ে যান মিরাজরা। তৃতীয় ম্যাচে দারুণ শুরুর পর মাঝে কিছুটা স্লো ব্যাটিংয়ে তিনশ ছোঁয়া হয়নি। স্পোর্টিং উইকেটে ব্যাটারদের কাছ থেকে আরও ভালো কিছু চান মিরাজ, ‘আমাদের কিছু জায়গায় ঘাটতি আছে। ব্যাটসম্যানদের আরও দায়িত্ব নিতে হবে। আমার মনে হয়, আমরা যদি ভালো, স্পোর্টিং উইকেটে খেলি, তাহলে ব্যাটসম্যানরা আরও আত্মবিশ্বাস পাবে। দেখেন, পাকিস্তান সিরিজে আমরা স্পোর্টিং উইকেটে খেলেছি এবং ব্যাটসম্যানরা রানও পেয়েছে। তাই আমরা সেভাবেই পরিকল্পনা করছি।’ সামনের সিরিজগুলোতেও স্পোর্টিং উইকেটে খেলার ইচ্ছা মিরাজের। একই সঙ্গে সৌম্যদেরও পুরো সিরিজে সুযোগ দিতে চান তিনি।