1. admin@bdlive24news.com : admin :
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
পহেলা বৈশাখের ছোঁয়ায় তারকারা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে মেতে উঠেছে লালবাগে অত্যাধুনিক ‘লালবাগ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ এর শুভ উদ্বোধন ২৪ শে মার্চ মঙ্গলবার বাদ এশা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সীতাকুণ্ড উপজেলা ঈদ পূর্ণ মিলন অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের গুলিয়াখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। দেশের যে এলাকায় ঈদ পালিত হচ্ছে আজ বিবেকবান মার্কিনিরা এই ‘অবৈধ’ যুদ্ধ প্রত্যাখ্যান করবেন বলে বিশ্বাস ইরানের ওয়াশিংটনে অজ্ঞাত ড্রোন, হামলার আশঙ্কা যেসব দেশ শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে সাবেক সংসদ সদস্য জি এম ফজলুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত অপ্রয়োজনীয় কথা না বলার অঙ্গীকার করে ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন

ইরান যুদ্ধে কুর্দিদের নাক না গলাতে ইরাক সরকারের হুঁশিয়ারি।

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

ইরাকের ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় সরকার কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারকে (কেআরজি) কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে ইরান যুদ্ধে জড়িত হতে না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। কুর্দি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে যে, কুর্দি প্রাদেশিক সরকার যদি এটি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়, তবে ইরাকি বাহিনী সীমান্ত এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে অগ্রসর হতে পারে।

ইরাকি, কুর্দি এবং তুর্কি কর্মকর্তারা মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শুরুতে বাগদাদ এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের চাপে কুর্দি গোষ্ঠীগুলো ইরান বনাম মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধে যোগ দিতে পারে—এমন ক্রমবর্ধমান আশঙ্কার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

এই আলোচনার বিষয়ে অবগত এক ইরাকি কর্মকর্তা বলেন, ‘বাগদাদ থেকে দেওয়া বার্তাটি স্পষ্ট ছিল—কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অবশ্যই ইরানের বিষয়ে জড়াতে দেওয়া যাবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদি কেআরজি এটি রোধ করতে না পারে, তবে ইরাকি ফেডারেল বাহিনী সীমান্ত সুরক্ষায় সেখানে চলে যাবে।’

কুর্দি ও তুর্কি সূত্রগুলো এই সতর্কবার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা বলছে, কেআরজি বর্তমানে বাগদাদ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলো সীমান্ত পেরিয়ে অভিযান চালানোর চেষ্টা করতে পারে।

কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আঞ্চলিক সরকারগুলোকে শঙ্কিত করে তুলেছে। বিশেষ করে ইরাকি কুর্দিস্তানে অবস্থানরত বেশ কয়েকটি ইরানি কুর্দি বিরোধী দলের উপস্থিতির কারণে। এই দলগুলোতে কয়েক হাজার যোদ্ধা রয়েছে এবং তাদের ইরানের বিভক্ত বিরোধীদের মধ্যে সবচেয়ে সংগঠিত অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কিন্তু তাদের এই সম্পৃক্ততা নিশ্চিতভাবেই তেহরানের প্রতিশোধমূলক হামলা ডেকে আনবে এবং ইরাককে এই সংঘাতের আরও গভীরে টেনে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। ইরান ইতিমধ্যে হুমকি দিয়েছে যে, সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালানোর জন্য কুর্দি ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করা হলে তারা ইরাকের সেই ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে।

তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলের কুর্দি সশস্ত্র আন্দোলনগুলোকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে আসছে। আঞ্চলিক সংঘাতে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহারের যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে তারা বারবার সতর্ক করেছে। কুর্দি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে এই যুদ্ধ থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, এতে জড়িত হওয়া এই অঞ্চলকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

কেআরজির উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট জালাল তালাবানির ছেলে কুবাদ তালাবানি ইরানের ভেতরে কুর্দি বাহিনীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধে যোগ দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা পুরো অঞ্চলে অভাবনীয় পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সম্প্রতি চ্যানেল ৪ নিউজকে তালাবানি বলেন, ‘আমাদের বাহিনী কোনো অবস্থাতেই এতে জড়াবে না। এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা তা খুব স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি।’

তাঁর এই মন্তব্য এমন সময় এল যখন খবর রটেছে, মার্কিন কর্মকর্তারা যুদ্ধের অংশ হিসেবে তেহরানের বিরুদ্ধে ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে দিয়ে হামলা চালানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে এই ধারণাকে উৎসাহিত করছেন বলে মনে হয়েছিল এবং কুর্দি নেতাদের বলেছিলেন যে তাদের সংঘাতের যেকোনো ‘একটি পক্ষ বেছে নিতে হবে।’ তবে পরবর্তীতে তিনি তাঁর অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বলে মনে হচ্ছে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি চাই না কুর্দিরা ইরানে প্রবেশ করুক। তারা যেতে ইচ্ছুক, কিন্তু আমি তাদের বলেছি যে আমি চাই না তারা সেখানে যাক। যুদ্ধ এমনিতেই যথেষ্ট জটিল হয়ে আছে।’

ওয়াশিংটন থেকে আসা এই পরস্পরবিরোধী সংকেত কুর্দি কর্তৃপক্ষকে এক নাজুক পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। তারা একদিকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর চাপ এবং অন্যদিকে যুদ্ধে কুর্দিদের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনার মাঝে আটকা পড়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্য সত্ত্বেও, নির্বাসিত দুই কুর্দি গোষ্ঠী—‘ফ্রি লাইফ পার্টি অব কুর্দিস্তান–পিজেএকে’ এবং ‘ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান’ যুদ্ধে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়নি। বুধবার এক বিবৃতিতে পিজেএকে পশ্চিম ইরানের কুর্দিদের স্থানীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছে যাতে ইরানি রাষ্ট্র যে জায়গাগুলো থেকে পিছু হটছে সেখানে তারা দায়িত্ব নিতে পারে।

পিজেএকের এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার মাজলুম হাফতান বলেন, ‘আমরা আমেরিকান বা ইরানি কোনো পক্ষই নিতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য আলাদা…আমরা একটি গণতান্ত্রিক এবং বিকেন্দ্রীভূত ইরান চাই যা কুর্দি এবং অন্যান্য জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করবে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানজুড়ে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ওয়াশিংটন একে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অচল করা এবং নেতৃত্বের ক্ষমতা খর্ব করার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করলেও, ইরানি কর্মকর্তারা একে শাসক পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি বিনা উস্কানিতে আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

হামলা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প ইরানিদের তাদের সরকারের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়ে জনসমক্ষে এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেন এবং ইঙ্গিত দেন যে এটি ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হতে পারে। এরপর থেকে সংঘাত দ্রুত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ইরান ইসরায়েলি ভূখণ্ড, মার্কিন ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে। এর ফলে আঞ্চলিক শিপিং লেন এবং জ্বালানি কেন্দ্রগুলো এই সংঘাতের কবলে পড়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2024 Zahidit News
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT