রাজধানী নাইরোবিতে রাতভর মুষলধারে বৃষ্টি হলেও নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে শহরটিতে বন্যার প্রভাব সবচেয়ে তীব্র, যেখানে মোট ৩৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এরপরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল (১৮ জন) এবং রিফট ভ্যালি অঞ্চল।
কেনিয়া রেড ক্রস জানিয়েছে, নাইরোবিতে পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় একটি মাতাতু (স্থানীয় মিনিবাস ট্যাক্সি) আটকে পড়লে সেখান থেকে ১১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে একটি বন্যাকবলিত বাড়ি থেকে দুই শিশুকে নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে।
গত সপ্তাহের অবিরাম বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি উপচে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে বহু বাড়িঘর তলিয়ে গেছে, সড়ক, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পানি সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাইরোবিতে কয়েকটি সেতু ভেঙে পড়ায় কিছু সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবারের ভারী বৃষ্টিতে কয়েকটি স্কুলও পানিতে ডুবে গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে, যা বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ২,০০০-এরও বেশি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলমান রয়েছে। নাইরোবিতে বন্যার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দুর্বল পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রণহীন নগরায়ণের ফলে নদী ও জলপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নাইরোবির পার্কল্যান্ডস এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী করিম হাসান আলী বলেন, শনিবার রাতে তার অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের বাইরে প্রায় দুই মিটার (সাড়ে ৬ ফুট) পানি জমে ছিল, যদিও পরে তা কমে গেছে। তার ফ্ল্যাটে পানি ঢোকেনি, তবে ভূগর্ভস্থ পার্কিংয়ের গাড়িগুলো পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল।
একই এলাকার অডিটর দিনেশ প্যাটেল জানান, সতর্কবার্তা দেখে তিনি ঝুঁকি নেননি এবং এক বন্ধুর বাড়িতে রাত কাটিয়েছেন। দুই বাসিন্দাই পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং নদীপথ বন্ধ করে দেয় এমন নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। প্যাটেল বলেন, বৃষ্টি অনেক বেশি হয়েছে, কিন্তু এমন ঘটনা প্রতিবছরই ঘটে। অন্য নিচু এলাকায় সমস্যা হয়নি কারণ সেখানে সঠিক অবকাঠামো রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো রোববার জানিয়েছেন, সরকার বন্ধ ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে পার্কল্যান্ডসের কিছু বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন যে সেখানে সরকারি সহায়তা পৌঁছায়নি এবং স্থানীয় অ্যাসোসিয়েশন নিজেরাই আবর্জনা পরিষ্কার করেছে।
এই বন্যার প্রভাব প্রতিবেশী ইথিওপিয়াতেও পড়েছে, যেখানে বন্যা ও ভূমিধসে ১০০-এর বেশি মানুষ মারা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উষ্ণ বায়ুমণ্ডল চরম বৃষ্টির ঘটনা বাড়িয়ে দিচ্ছে। শিল্প যুগের পর থেকে বিশ্বের তাপমাত্রা প্রায় ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যা নির্গমন কম না হলে আরো তীব্র হবে।